কীভাবে ব্যবহার করবেন
- মুদ্রা বেছে নিন এবং যত টাকা লোন নিতে চান, সেই পরিমাণ লিখুন।
- ব্যাংক বা ঋণদাতা যে বার্ষিক সুদের হার জানিয়েছে, সেটি লিখুন।
- লোনের মেয়াদ বছর বা মাসে লিখুন, আর প্রথম EMI কোন মাসে দেবেন, তা বেছে নিন।
- মাসিক EMI, মোট সুদ ও মোট পরিশোধ দেখুন। পরিশোধের তালিকা খুলে কোনো বছরে ট্যাপ করলে প্রতি মাসের EMI-তে আসল আর সুদের ভাগ আলাদা করে দেখতে পাবেন।
EMI-এর সূত্র
EMI = P × r × (1 + r)^n ÷ ((1 + r)^n − 1)
এখানে P হলো লোনের পরিমাণ, r হলো মাসিক সুদের হার (বার্ষিক হার ÷ 12 ÷ 100) আর n হলো মোট কিস্তির সংখ্যা। বেশিরভাগ ব্যাংক হোম, কার ও পার্সোনাল লোনে এই রিডিউসিং ব্যালান্স পদ্ধতিতেই EMI ঠিক করে, অর্থাৎ সুদ লাগে শুধু বাকি থাকা ঋণের ওপর।
উদাহরণ: ₹20 লাখের হোম লোন, বার্ষিক সুদ 8.5%, মেয়াদ 20 বছর (240 মাস)। এখানে r = 8.5 ÷ 12 ÷ 100 ≈ 0.00708। এতে EMI দাঁড়ায় প্রায় ₹17,356, পুরো মেয়াদে মোট সুদ প্রায় ₹21,65,552, অর্থাৎ মোট পরিশোধ ₹41,65,552।
মেয়াদ বদলালে কী হয়
মেয়াদ লম্বা করলে EMI কমে, কিন্তু মোট সুদ অনেকটা বেড়ে যায়। একই ₹20 লাখ, 8.5% সুদের লোনে:
- 15 বছর: EMI ₹19,695, মোট সুদ ₹15,45,062
- 20 বছর: EMI ₹17,356, মোট সুদ ₹21,65,552
- 30 বছর: EMI ₹15,378, মোট সুদ ₹35,36,177
কার লোনের উদাহরণ
9.5% সুদে 5 বছরের জন্য ₹8 লাখের কার লোনে EMI হয় প্রায় ₹16,801, আর মোট সুদ প্রায় ₹2,08,089। কার লোনে প্রসেসিং ফি ও বিমার খরচ আলাদা করে যোগ হতে পারে, তাই ব্যাংকের কাছে মোট খরচ জেনে নিন।
মোট সুদ কমানোর উপায়
- শুরুর বছরগুলোতে আংশিক প্রি-পেমেন্ট করুন: তখন সুদ সবচেয়ে বেশি থাকে, তাই বাড়তি প্রতিটি পরিশোধ সরাসরি আসল কমায়।
- যত কম মেয়াদের EMI স্বচ্ছন্দে দিতে পারবেন, সেটাই বেছে নিন: EMI একটু বেশি হলেও মোট সুদে বড় সাশ্রয় হতে পারে।
- শুধু সুদের হার নয়, ফি-ও তুলনা করুন: প্রসেসিং ফি আর লোনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া বিমা লোনের প্রকৃত খরচ বাড়ায়।
- ফ্লোটিং রেট লোনে বেঞ্চমার্ক হার বদলালে EMI বা মেয়াদ বদলাতে পারে; ব্যাংকের নতুন শিডিউল এখানকার হিসাবের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।